নতুন লেখা
চারিদিকটা, কেমন দুলতে থাকে। যেন, অনেক গুলো বুক একসাথে ধুকপুক
করছে।ধুকপুকানি টা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। প্রথমে জলের ফোঁটা এসে পড়ে, বৃদ্ধ এক পাতার ওপর, আয়ু বাড়ে একটু। তার পর হুড়মুড় করে
বাকিরা এসে জড়িয়ে ধরে সকল কে। সবচেয়ে উঁচু তে থাকা কাঠ-গোলাপ গুলো, যারা অনেক দিন ধরে কারোর ছোঁয়া পেতে চেয়েছিলো, বৃষ্টির
ছোঁয়া পেয়ে আরোও রঙীন হয়ে ওঠে। পাকা ফল গুলোর ওপর বসে থাকা পাখি গুলো, আবহাওয়া বদলে একটু অন্যমনস্ক হয়ে ওঠে, আর ফলগুলো, হিংসার আগুনে পুড়ে আর একটু মিষ্টি হয়ে যায়। পাছগুলোর গায়ে শ্যাওলা গুলোর
রাজ্যে, তখন হুলুস্থুল কান্ড। ওর ফাঁকে জমে থাকা, সুখ-দুঃখ গুলো ভিজে যায়, স্থির হতে চায়, মিশে যেতে চায়। ওরা ভাবে, যদি আমাদের ও অমন ডালপালা
হোতো, আমরাও তখন হাত-পা ছড়িয়ে দিতেম, গল্প
করতাম মেঘের সাথে। আমাদের কেও দেখতে পেত আকাশ। পাথরের শুকনো গা, সাঁওতাল রমণীদের মতো চিকন হয়ে ওঠে। এর কিছুই যেনো আগে ছিলো না। এই মেঘ, এই চরাচর সব নতুন ভাবে তৈরী হচ্ছে। বুলবুলি, দোয়েল
সব মাটিতে নেমে আসে এইসময়। ওরা ঘুরে ঘুরে দেখে, কোনো কোণা
শুকনো আছে কিনা। এই সময়, হাওয়ায় থাকে মহুয়ার নেশা। শরীরের
আনাচ-কানাচ থেকে ধূলো উড়ে গিয়ে, শরীর নোনতা হয়ে যায়। এই সময়
কাউকে জড়িয়ে ধরলে, রঙ-মশাল হয়ে জ্বলতে থাকে শরীর আর মন। আস্তে
আস্তে বৃষ্টি ধরে আসে।আদুরে পিঠে একফোঁটা বৃষ্টি, একটা ধাতব
শব্দ...আর চিৎকার, ধস্তাধস্তির শব্দ, আর
বুনো একটা পাখির...নাম জানা নেই তাই...শব্দ অনুসরণ করে ধাওয়া করে দেখা যায়, এক বুনো জন্তু সুযোগ নিয়ে কিছু পাখির বাচ্চা নিয়ে পালাচ্ছে। কিছুটা রক্ত আর
পালক ছাড়া, পূর্ব জন্মের কোনো চিহ্ন ছাড়েনা এরা। মা-পাখি কাঁদতে
কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে।আজকের রক্ত, কাল কালসিটে হয় যাবে। এই জমাট
বাঁধা দুঃখ তো গোটা জঙ্গলের। তাই এইসব জায়গায় গেলে পাতার খসখস, পাখিদের আওয়াজ, এই গল্প গুলো বলে। বৃষ্টি থেমে গেলে
এইসব জায়গাগুলো এই গল্প বলে।

0 comments:
Post a Comment