নীল অ্যাঙ্কলেট, সমুদা আর ফুটবল-দিন
সমুদা ফুটবল খেলত খুব ভালো। ওর বাঁ
পায়ে বল কাটিয়ে এগোনোর আমরা ছিলাম মুগ্ধ দর্শক। আমাদের সেই ক্লাস থ্রি-ফোর বয়েসের
দুপুরগুলোয় রোদ্দুর উঠতো খুব। আমরা বিশ্বকাপ মানে জানতাম ব্রাজিল আর রোনাল্ডিনহো
মানে জানতাম সমুদা। সমুদার ছিলো ব্ল্যাক কালারের অ্যাঙ্কলেট একখানা। খেলতে নামার
আগে টিম ভাগ হয়ে গেলে মাঠের কোয়ার্টারের ছায়ায় বসে ওটা পায়ে পরে নিত। তারপর সমস্ত
মাঠের সবুজ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াত ব্ল্যাক অ্যাঙ্কলেট। সমুদা।
দেখাদেখি
মায়ের কাছে জোরজার বায়না চালিয়ে আমিও ওরম কিনেছিলাম একটা। নীল রঙের ছিলো
অ্যাঙ্কলেটটা। আমি সমুদা নই, জানতাম। তবু ওটা পায়ে গলিয়ে
সমুদা হবার চেষ্টা করতাম প্রাণপণ। বড়দের ফুটবল ম্যাচে ছোটরা ছিলো দুধে-ভাতে। আমি
এমনি-এমনি দৌড়ে চক্কর কাটতাম সারা মাঠ। সেসব ছিলো নীল অ্যাঙ্কলেটের দিন।
তারপর একদিন সত্যি সত্যি খেললাম সমুদার টীমে। দু'একজন বেশি বয়েসের পায়ে লেগে থেকে বল-ফল কাড়লাম। সমুদা এসে পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেল। এন্থু পেয়েছিলাম বেশ। দিন যখন গা ধুয়ে সন্ধে দেবার তোড়জোড় করছে… তখন হঠাৎ…অপোনেন্ট সাইডের গোলপোস্টের সামনে সমুদা একটা পাস বাড়িয়ে দিলো আমার দিকে। আর চোখ-ফোখ বন্ধ করে আমিও জোরসে শট নিলাম একটা। পিছন থেকে একটা চিৎকার শুনেছিলাম তারপর। গো-ও-ও-ও-ল। আমাদের ছোটদের দৌড়ে নামা মনে আছে। সমুদার কোলে তুলে নেওয়া মনে আছে। আমরা জিতেছিলাম সেই ম্যাচটা। কেউ খেয়াল করেনি অতো, তবে আমি জানতাম সেদিনটা ছিলো আসলে নীল অ্যাঙ্কলেটের।
তারপর যা হয়, রোদ্দুর পড়ে আসে ক্রমে। সমুদারা চাকরি নিয়ে দূরে চলে যায় একে একে। শুরু হয় আমাদের দাদা বনে যাবার দিন। কিসব জানি প্রোজেক্টের জন্য মাঠের কোয়ার্টারগুলো ভাঙা শুরু হয় একদিন। ছেলেবেলার গোলপোস্টের জায়গায় পাশাপাশি শুয়ে থাকে ক্রেন আর বুলডোজার। পড়াশুনো আর বান্ধবী দিনের ফাঁকে নীল অ্যাঙ্কলেটটাও কিকরে জানি ভ্যানিশ হয়ে যায় একদম। শুধু 'বিসর্জন' বললে মনে হয় ওটার কথা। সমুদার কথা। ব্রাইট হলুদ একটা রোদের কথা, যা ছুঁয়ে থাকতো ছোটবেলা, ফুটবল-দিন।
![]() |
ছবিঃ অর্পণ ঘোষ
|
তারপর একদিন সত্যি সত্যি খেললাম সমুদার টীমে। দু'একজন বেশি বয়েসের পায়ে লেগে থেকে বল-ফল কাড়লাম। সমুদা এসে পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেল। এন্থু পেয়েছিলাম বেশ। দিন যখন গা ধুয়ে সন্ধে দেবার তোড়জোড় করছে… তখন হঠাৎ…অপোনেন্ট সাইডের গোলপোস্টের সামনে সমুদা একটা পাস বাড়িয়ে দিলো আমার দিকে। আর চোখ-ফোখ বন্ধ করে আমিও জোরসে শট নিলাম একটা। পিছন থেকে একটা চিৎকার শুনেছিলাম তারপর। গো-ও-ও-ও-ল। আমাদের ছোটদের দৌড়ে নামা মনে আছে। সমুদার কোলে তুলে নেওয়া মনে আছে। আমরা জিতেছিলাম সেই ম্যাচটা। কেউ খেয়াল করেনি অতো, তবে আমি জানতাম সেদিনটা ছিলো আসলে নীল অ্যাঙ্কলেটের।
তারপর যা হয়, রোদ্দুর পড়ে আসে ক্রমে। সমুদারা চাকরি নিয়ে দূরে চলে যায় একে একে। শুরু হয় আমাদের দাদা বনে যাবার দিন। কিসব জানি প্রোজেক্টের জন্য মাঠের কোয়ার্টারগুলো ভাঙা শুরু হয় একদিন। ছেলেবেলার গোলপোস্টের জায়গায় পাশাপাশি শুয়ে থাকে ক্রেন আর বুলডোজার। পড়াশুনো আর বান্ধবী দিনের ফাঁকে নীল অ্যাঙ্কলেটটাও কিকরে জানি ভ্যানিশ হয়ে যায় একদম। শুধু 'বিসর্জন' বললে মনে হয় ওটার কথা। সমুদার কথা। ব্রাইট হলুদ একটা রোদের কথা, যা ছুঁয়ে থাকতো ছোটবেলা, ফুটবল-দিন।

0 comments:
Post a Comment