আমার ধ্যাবড়ানো রঙ
ও দাগের কাটাকুটি
মলাট টা খুললে, রাণা
দা আমার কাছে রাণা হয়ে যায়। রাণা দা, রাণা কাকুরা এসব লিখতে
পারে না। পারলেও আমার পড়তে অস্বস্তি হয়। রাণার সাথে আমি দিব্যি পানু, কাজের মাসির বুক, মুতের কাটাকুটি, ধুনকি নাচন, নেশা, এনিথিং এন্ড
এভ্রিথিং নিয়ে আড্ডা মারতে পারি। সেই রাণার ওমন টাক আর ভারী ভারী মুখ নিয়ে মলাট
আমি অন্ততপক্ষে খুলতে পারিনি। মাঝে মাঝে মনে হয়, রাণা দার
আসল ছবি না দেখলে আমি জানতাম রাণা আমার বয়সী একটা বয়স। যে আমার সাথে বাড়ে। আমার আর
রাণার যৌনতা অঙ্ক করতে করতে বেড়েছে। তার আর
আমার একসাথে কুচোকুচো বাল উঠেছিলো আর “এটা কি?” ভেবে দুজনেই খুব ভয়
পেয়েছি। রাণা আর আমি দুপুরে ছাদে টেস্ট পেপার করতে করতে ভাবছি একটা চৌবাচ্চার যোগ
বিয়োগ নল দুটোই খোলা আর জল টলটল করছে। এই য্যানো উপচে পরবে। কিন্তু পরছে না। তারপর
ধরা যাক, রতন বাবু ৭.৫% সুদে ১ লাখ টাকা ধার নিলেই। দু বছর
বাদে সুদাসলে কত হবে? রতন বাবু না শুধতে পেরে আত্মহত্যা
করেছেন নাকি বউ এর বিয়ের গয়না বন্ধক দিয়েছেন? রাণা আমাকে হাত মারতে গিয়ে ধরা পরে
যাওয়ার গল্প বলেছে তারপর। রাণা আর আমার বয়সের সমষ্টি তখন এক প্যাকেট ছোট সিল্ককাট।
রাণা যোগে ভালো আর আমি বিয়োগে। আমাদের সমানচিহ্ন নিয়েও আলাদা আলাদা ধারণা।
রাণাদের পাঁচিলের ওপর একটা কালো লেজমোটা বিড়াল থাকে। ওদের বাড়ি
গেলেই আমি ওকে ক্যাঁত করে লাথাই। ক্যাঁওম্যাঁও করে সে রাণার কাছে জানায়। আমার তো
মাঝে মাঝে মনে হয়, রাণা না ওকে রবীন্দ্রসংগীত শুনতে বলে। রাণা
জীবনানন্দ, ভাস্কর চক্রবর্তী আর রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে প্রচুর
কথা বলে। বলতে বলতে ওর চোখ চিকচিক করে। আমি রাণার হাঁপানির ওষুধ গুলো নিয়ে
নাড়াচাড়া করি। আমার ধারণা ওই ট্যাবলেট গুলো গুঁড়ো করলে রবীন্দ্রসংগীত গুঁড়ো পাওয়া যাবে। মাঝে মাঝে রাণা খুব ভারী ভারী কথা বলে।
লাথ খেলে মানুষ যেমন ভারী হয়ে যায়। ওকে য্যানো কেউ র্যান্ডম লাথিয়েছে। আর সেটাকে মেক আপ দিতে, বলছে,
বয়স বাড়া। রাণার
মাঝে মাঝে একটা ফুটবল হয়ে মজিদ বাসকারের থাই এর ওপর শুয়ে থাকতে ভালবাসে। মজিদ
বাসকারে থাই যেন তখন সেই চোখ বুজিয়ে থাকা অন্ধকারের মত। তাতে ইরান দেশের গন্ধ আছে।
রাণা মজিদ বাসকারের পায়ে লেপ্টে আছে। রাণা
ইস্টবেঙ্গল আমি মোহনবাগান। ওর ধারণা, একজন কবি কোথাও পৌঁছাতে
পারেন না, রওনা দেন মাত্র। কবির জন্য চাপা দেওয়া ভাতের চুপড়ি
কখন ও ওঠে না। পঁয়ত্রিশ টাকা কিলো চালের ভাত নষ্ট হয়। এটা ওর কবি আর আমার রেলকাটা
পড়াদের নিয়ে ধারণা। মজিদ কি জলপথে বাড়ি ফিরে গেছিলো? তাহলে
আমি নিশ্চিত সেদিন রাণার জানলায় এক বালতি জ্যোৎস্না কেউ ঢেলে দিয়েছিলো। ফলত
ঝাপ্সা। জানলার ওপারের কাউকে একটা রাণা ক্রমাগত বলে যাচ্ছে, “সাগর
সেনের সাথে গাইবে? মজা হবে বেশ”। রাণার মুখ দিয়ে গ্যাঁজা ওঠে
জ্যোৎস্নার মত সেই একই কথা বলতে বলতে। আমি রাণার দিকে শূন্য থ্রু বাড়াই। রাণা আজ
ফরোয়ার্ডে। সহজ বল। ইনসাইড ডজ করলেই নেশত ওপেন। অথচ রাণা নিজে দুম করে সেই শূন্যের মধ্যে
ঢুকে যায়। বসে পরে প্রণবেন্দু লালা, সাগর সেন, হাঁপানির ওষুধ, মহাপৃথিবী শব্দ টা আর তহমিনা বেগমের পাশে।
ডাকে, আয়... আয় না। চিৎকার করে বলি, হারামি
গোল কর...তুই না গৌতম কে হিংসে করিস? রাণা বলে, আমি গোল করতে ভুলে গেছি রে। রানা তাহমিনা র হাতের তালুতে গড়িয়ে যায়। তাহমিনা বেগম রাণার গায়ে সেলাই এর কাজ
করে দেবে। রাণা সেই তহমিনা বেগমের হাতে তখন রুমাল হয়ে যাবে। যার খুঁটে লেখা “ত”।
সেই রুমাল দিয়ে তার স্বামী ঘাম মুছবে। রাণার হেব্বি ফাটবে। রাণা সেই শূণ্য হয়ে
সারা মাঠ গড়াগড়ি খায় বিনা প্রতিবাদে। মাঠে একলা রাণা সেই শূন্যের মধ্যে পরে। আমরা
বাবিনদার পেছন পেছন ছুটি। একটা মৃত্যুকে অনুসরণ করাই তখন আমাদের খেলা। হয়তো
একমাত্র অমোঘ খেলা। রাণা মিথ্যে বলে। কেউ নাকি কোথাও পৌঁছাতে পারে না। বাবিন দা তো
পৌঁছে গেছে। কোলকাতার হাসপাতাল থেকে বাড়ি। তাও ম্যাটাডোর করে না, মৃতদেহগাড়ি করে। চাকার দাগের মত কই মুছে যায় নি তো এসব। এই যে রাণার টাক,
ভারিক্কি আর বয়স - এই সব মনে হয় মালটার মেক আপ। সেজে আছে। আসলে সাজঘরে প্রতি রাণার অদ্ভুত একটা টান
আছে। মঞ্চে চান্স পায় নি বলে, রাণা আলো ফ্যালে। মেক আপ করা মুখ নিয়ে
আলোর পেছনে রাণা আরেকটা চরিত্র তৈরী করা চেষ্টা করছে। যার প্রত্যেকটা সংলাপ রাণার
একান্ত নিজেস্ব এবং দৃশ্যের কাছে তৃতীয় পুরুষ। রাণা শোভা দির ওপর একটু কম উজ্জ্বল আলো ফেলে নির্দেশকের শেষ
কথায়। শোভাদি তো সাদা মাটা। শোভাদির ঘামের গন্ধও সাদা মাটা। শোভা দির ঘাম গড়িয়ে
কালো মেক আপ নামে। এমন কি দলের মধ্যে সবথেকে ভাল কাঁদে শোভা দিই। আসলে রাণার ও
মাঝে মাঝে ইচ্ছা করতো শোভা দির ওপর সব আলো টুকু ফেলে নাটক ভেস্তে দিতে। শোভা দি
স্ক্রিনে পেছনের অন্ধকারে শোভা দি কে গুঁজে ধরে বলতে ইচ্ছা করে, রাখো তো
বালের নাটক...নায়িকা হবে? নায়িকা? চকচকে
সংলাপ দেবো... কড়া মেক আপ... আর কাঁদতে হবে না... ডবল পেমেন্ট... ভালো চাল খাবে
বুঝলে... তোমার আঙুল এ সরু চাল মাখামাখি হবে...। শোভার মধ্যবিত্ত বুকে হাত চালিয়ে
দি। শোভা দি মঞ্চে যেতে চাইছে। সংলাপ ওগড়ানোর সময় হয়ে গেছে। প্রত্যেকবার সংলাপ
বলতে যাওয়ার আগে শোভা দির মাসকাবারি বাজারের চিন্তা মাথায় আসে। ফলে সে কোনদিন নাটক
ভেস্তে দেয় নি। রাণা আমার আর শোভাদির ওপর উজ্জ্বল আলো ফেলে থাকে। সব দর্শক আমাকে
আর শোভা দি কে দেখতে থাকে। শোভা দি, আমার নীচ থেকেই, মুখস্ত করা সংলাপ বলতে থাকে। আজ তো তোমার আন্য সংলাপ বলার কথা ছিল শোভা
দি। শোভা দি আমাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যায়। নিজেকে ঢুকিয়ে
দেয় একটা সাদামাঠা আলোর নিচে, খিদের নির্দেশ মত।
আমার তো মনে হয় রাণা ইচ্ছা করে নিনির গ এ গ মেলায় নি। ইচ্ছা করে
আলাদা লিখেছিলো। ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে। ভেঁসে যাওয়ার ভয় সবার ই থাকে। নাহলে, নিনি
মরে যেতে রাণা ওরম কষ্ট কেন পেয়েছিলো? রাণার ফেঁসে যাওয়ার ভয়
ছিলো। নিনির গ আর রাণার গ মিলে যাচ্ছিলো দেখে। রাণা নীল নীল ভয় পেয়েছিলো আসলে।
রাণা ভয় কাটাতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে “বীরপুরুষ” বলছে। খুব জোরে জোরে কিছু বললে ভয় কেটে
যায়। আর্ধেক ভূল ভাল। খালি হা রে রে রে টাই মারাত্মক জোরে আর নাটকীয় ভাবে বলছে।
ওরে সালা তোর সব ছক বুঝি। তোর পোঁদে ভয় ঢুকে গেছে। নিনির গ আর তোর গ মিলে গেলে?
বাড়িওয়ালার কাছে ফেঁসে যাবি। তোকে তাড়িয়ে দেবে আর তোকে গিয়ে দাঁড়াতে
হবে একটা সিঁথিওয়ালা মাঠের কাছে। তখন জীবনানন্দ টন্দ বেড়িয়ে যাবে। সেই পাগল টার
কাছেও। যে বলেছিলো, করেছিলাম তো... হেব্বি করেছিলাম। তারপর
তোর আর পাগলের যে কথা টা হয়েছিলো, সেটা আসলে পাগল আর সেই
ঈশ্বরীর কথন। ঈশ্বরীর বাড়ি নেই, কোথা থেকে এলো জানা নেই, অনিল বিশ্বাস জানে না, এমন কি ঈশ্বরে যৌনতা নিয়েও তার কোন চেতনা নেই।
এমন কি তার করার সময় গায়ে জ্যোৎস্নার গুঁড়ো পড়ে না। অঙ্ক কিনবা যৌনতা তার কাছে কোন
নির্মাণ না। এমন কি সে কোন আশ্রয় ও একক যৌনসঙ্গী ধারণাতেও বিশ্বাস করে না। বাজে
গন্ধের ঘাম হয়। সে
সোহাগ করে না তোর চাঁদের জ্যান্ত হয়ে যাওয়াকে। তুই চেপে গেছিস। তোর মনে হচ্ছে তোর দিকে
একের পর এক বল আসছে আর তুই একটাও নেট করতে পারবি না গৌতম কিমবা থাপির মত করে। তোর
গোঙানি গুলো স্মার্ট করে গোঙাচ্ছিস। এই যে তোর শ্বাস কষ্ট হচ্ছে আর আমি একটা করে
টানের ওষুধ শূন্যের পেটে ছুঁড়ে দিচ্ছি। তুই ব্যাঙের মত লাফিয়ে লাফিয়ে ধরছিস। বুঝলি
রাণা, ফরোয়ার্ড না, তুই বরং গোলকিপার
হওয়ার চেষ্টা করতে পারতিস। তাতে তোর বিচি টাও লাথ খেতো না। যৌনতা নিয়ে জ্ঞান ও
দিতিস না। এই যে তুই তাহমিনা বেগমের কচি পাছার কথা টা বললি না। বললি কি, কি করে ডাক্তারের মেয়ে গ্রামের ব্যাড বয়ের প্রেমে ডুবসাঁতার দিলো। একটা
শুকনো হাঁড়ি গরমের শব্দ দিলি। রাগ হয় সালা। মাথাটা সেই পাঁচিলের গর্তে ঢুকিয়ে
দি।কানের দুপাশের চাওমড়া ছিঁড়ে যাচ্ছে। আমি মেক আপ ম্যানের কাছে টাটকা ক্ষত এঁকে
আসিনি। তুই মুখে আলো ফেলিস। সাদামাটা আলো। আমি সংলাপ বলে যাই। মুখে মুখে কাটাকুটি
খেলি নিজের সাথে। মাঝের মধ্যিখানের ঘরে চিকে আর নীচের বাঁদিকের টাকে গোল্লা। আমি
কোন কাটাকুটি খেলায়
নিজেকে হারাতে পারিনি সৎ ভাবে। বারবার ড্র হয়ে গেছে। আমি চোখ বুজে খেলেও দেখেছি।
হয়নি। হয়না। আমি এখোনো এত টাও পোক্ত হইনি যে চোখ বুজে রঙ ছুঁয়ে বলে দেবো কোনটা কি।
দুশো ছ টা হাড়ে আটকে আছি রাণা। তোর বাবিন দা, শোভা দি,
থাপি, নিনি, শোভা দি, তাহমিনা বেগমের গায়ে আঁকা ফুল, তোর তরুন মাস্টারের
বউএর খসানো পেট, আরো
অনেকে আমার জন্য অপেক্ষা করেছে, কিন্তু আমি লিখতে সাহস
পাচ্ছি না।
রঙ ও দাগের কাটাকুটি
রাণা রায়চৌধুরী
নাটমন্দির
বিনিময় – ৮০ টাকা
0 comments:
Post a Comment