আমাদের পুজোসংখ্যা আছে, বিসর্জনসংখ্যা নেই।
তাহলে কী এই পুজোসংখ্যাগুলি অমর? রয়ে যাবে? ফুল-চন্দন-মালা-মন্ত্র
চলবে রোজ? যদি তাই হবে তবে বছরের শেষে কেনই বা তাকে দেখা যাবে ফুটপাথে? কেনই বা
হারিয়ে যাবে বাড়ির কোণায়, খবরের কাগজের স্তূপে? কেন কেউ তেমন কথা বলবেন না
পুজোসংখ্যার উপন্যাসগুলো নিয়ে! কেন হকারের কাছে হত্যে দিয়ে থাকতে হবে না এনে দাও
অমুক পত্রিকাটা। বছর যেতে না যেতেই আবার সাহিত্য মরে যাবে সেই প্রবাদ বাক্যটার কথা
মেনে। মহাকাল পাবলিশিং হাউস ঠিক করবেন যা করার। যদিও মহাকালকেও হাত করা যায়,
জানিয়েছেন কবি প্রনবেন্দু দাশগুপ্ত -‘‘যা
কিছু অসারকালের সম্মার্জনী তাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেয় এই সর্বজন সম্মত উক্তিও
সত্য নয়,
কেননা আমরা যাকে মহাকাল বলি তাকেও নিয়ন্ত্রিত করা যায়।’’ (অলিন্দ, ১৩৯৭
গ্রীষ্ম)
এটুকু পড়েই, অনেকে আহত হলেন। বলতে চাইছেন হয়তো একটাও ভালো
উপন্যাস কি পড়িনি এবছর, এই তো ওনারটা...। জানিয়ে রাখি আমি পঁচানব্বই শতাংশের কথা
বলছি। কিন্তু, বিসর্জনসংখ্যাই বা থাকবে না
কেন? কত কী প্রতি মিনিটে ছেড়ে দিতে হয় আমাদের। কত দৃশ্য যা আর একবারও অবিকল
সেইরকমভাবে ফিরে আসবে না। কত গান শোনার সময় চারপাশ কিছুতেই আর সেরকম উজ্জ্বল লাগবে
না। কত দুপুরের সবুজ মাঠে ক্রিকেট খেলার ফাঁকে কমলালেবুর বিচি চিবিয়ে মুখ তেতো হয়ে
যাওয়া, সেই স্বাদ? এরকম কত সম্পর্ক, কত কথা, কত প্রিয় জিনিস প্রতিদিন বিসর্জন দিয়ে
বেঁচে আছি। এই সংখ্যা
সেসবেরই যৎসামান্য। বলা ভালো, আদপে সংখ্যাই নয় কোনও। চারটে মাত্র লেখা যা দিয়ে
বিষয়টিকে আবছা করে ধরা গেল হয়ত। বিসর্জন নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমাদের মনে পড়েছে নবারুণ
ভট্টাচার্যের ‘ভাসান’ গল্পটির কথা। আশা করা যাক, ম্যাকারেলে না থাকলেও সেই গল্পটি
আপনারা পড়ে নেবেন।
বিসর্জন থাকলেও ম্যাকারেলের বাকি বিভাগগুলোও সচল থাকছে।
কোনও বড় কথা নয় যদিও, তবু জানিয়ে রাখি। আমাদের সম্পাদকীয় টিম থেকেও বিসর্জিত হলেন
একজন। মহাকালের হাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া গেল না।
0 comments:
Post a Comment